সুনামগঞ্জ , মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬ , ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জনগণের উন্নয়নই বিএনপির মূল লক্ষ্য : প্রধানমন্ত্রী ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকই থাকছে নদী ও খাল দখলকারীরা সাবধান হয়ে যান : কৃষিমন্ত্রী সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের দায়িত্ব নিলেন মিজানুর রহমান চৌধুরী পণতীর্থে মহাবারুণী স্নান আজ দখল হওয়া খালগুলো উদ্ধার করা হবে সড়কের উন্নয়নকাজে অনিয়মের অভিযোগ ‎মাসব্যাপী কিরাআত প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হাওরের বাঁধ: ‘আমরা আরম্ভ করি শেষ করি না...’ এখন থেকে কোনো ধরনের ঘুষ-দুর্নীতি সহ্য করা হবে না : বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী মিজান চৌধুরী সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের নতুন প্রশাসক শিলা বৃষ্টিতে বোরো ফসল আক্রান্ত, আগাম বন্যার শঙ্কায় কৃষক অপরিকল্পিত ফসল রক্ষা বাঁধে জলাবদ্ধতা, কৃষকের স্বপ্নভঙ্গের শঙ্কা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে প্রবাসী শ্রমিকদের জীবন শান্তিপূর্ণ দেশ গড়ার অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর হাওরে আশা-নিরাশার দোলাচল জামালগঞ্জে ব্রিটিশ বাংলা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের ঈদ উপহার বিতরণ সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল এমপি কলিম উদ্দিন মিলনকে সংবর্ধনা প্রদান জগন্নাথপুরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১০

শিশুদের রোজা : শৈশব থেকেই অভ্যস্ত করবেন যেভাবে

  • আপলোড সময় : ০৩-০৩-২০২৬ ০৬:২১:০৩ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৩-০৩-২০২৬ ০৬:২১:০৩ পূর্বাহ্ন
শিশুদের রোজা : শৈশব থেকেই অভ্যস্ত করবেন যেভাবে
মুফতি হাম্মাদ আহমদ মুহাদ্দিসে গাজিনগরী::> রমজান আত্মসংযম ও ইবাদতের মাস। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য রোজা ফরজ হলেও ছোটদের মাঝে এর গুরুত্ব তুলে ধরা এবং তাদের এই পুণ্যময় কাজে অভ্যস্ত করে তোলা বাবা-মায়ের দায়িত্ব। তবে শিশুদের ক্ষেত্রে বিষয়টি হতে হবে আনন্দময় ও উৎসাহব্যঞ্জক, কোনোভাবেই যেন তা তাদের ওপর বোঝা হয়ে না দাঁড়ায়। শিশুদের রোজায় উৎসাহিত করতে নিচের পদক্ষেপগুলো নেওয়া যেতে পারে: ১. গুরুত্ব ও ফজিলত তুলে ধরা : শিশুরা অনুকরণপ্রিয়। তাদের সামনে পবিত্র কুরআন ও হাদিসের আলোকে রোজার মাহাত্ম্য সহজভাবে উপস্থাপন করুন। রোজা রাখলে মহান আল্লাহ কতটা খুশি হন এবং এর প্রতিদান কী, তা গল্পের ছলে তাদের বুঝিয়ে বলুন। ২. অভ্যাসের শুরু হোক ধীরে ধীরে : রমজান আসার আগেই ছোট ছোট দুই-একটি রোজা রাখার মাধ্যমে তাদের প্রস্তুতি শুরু হতে পারে। শুরুর দিকে পুরো দিন রোজা না রেখে দিনের কিছু অংশ বা দুপুর পর্যন্ত রোজা রাখার অভ্যাস করান। ধীরে ধীরে এই সময়সীমা বাড়ান। ৩. সাহরি ও পছন্দের ইফতার : শেষ রাতে সাহরি গ্রহণ করা রোজার অন্যতম সুন্নত। শিশুদের সাহরিতে জাগিয়ে তুলুন এবং তাদের সঙ্গে নিয়ে খাবার খান। এতে তারা রোজা রাখার মানসিক শক্তি পাবে। একইভাবে, ইফতারে তাদের প্রিয় ও পুষ্টিকর খাবারগুলো রাখার চেষ্টা করুন। এতে তারা পরবর্তী রোজা রাখার জন্য আগ্রহ বোধ করবে। ৪. প্রশংসা ও ইতিবাচক প্রতিযোগিতা : পরিবারের একাধিক শিশু থাকলে তাদের মধ্যে সুস্থ ও সুন্দর প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করা যেতে পারে। তবে খেয়াল রাখতে হবে, কেউ পিছিয়ে পড়লে যেন তাকে তিরস্কার করা না হয়। বরং ছোট ছোট অর্জনেও সবার সামনে তাদের প্রশংসা করুন। এতে তাদের আত্মবিশ্বাস ও মানসিক উন্নতি ঘটবে। ৫. উপহারের মাধ্যমে উৎসাহ প্রদান : শিশু যদি একদিন বা এক সপ্তাহ রোজা পূর্ণ করে, তবে তাকে ছোটখাটো কোনো উপহার দিন। এই স্বীকৃতি তাকে পরবর্তী সময়ে আরও উৎসাহের সঙ্গে রোজা রাখতে অনুপ্রাণিত করবে। ৬. সময় কাটানোর সৃজনশীল উপায় : রোজার কারণে ক্ষুধার্ত থাকলে শিশুরা অস্থির হয়ে উঠতে পারে। এমন সময় তাদের বিভিন্ন বৈধ খেলনা দিয়ে বা পছন্দের গল্প বলে ব্যস্ত রাখুন। সম্ভব হলে দিনের কিছু সময় তাদের ঘুম পাড়িয়ে রাখতে পারেন যাতে ক্লান্তি কম অনুভূত হয়। ৭. জবরদস্তি নয়, প্রয়োজন ¯েœহ : সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শিশুদের ওপর রোজার বিধান বাধ্যতামূলক নয়। তাই রোজা রাখতে গিয়ে কোনো শিশু যদি অসুস্থ বোধ করে বা খুব বেশি কষ্ট পায়, তবে তাকে জোর করে রোজা পূর্ণ করানোর প্রয়োজন নেই। ধর্মীয় বিধানের চেয়েও এখানে তাদের স্বাস্থ্য এবং মানসিক প্রশান্তি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই শাসন নয়, বরং আদর ও ¯েœহের মাধ্যমেই তাদের এই মহান ইবাদতে অভ্যস্ত করে তুলুন। আদর্শ মুমিনের পাথেয় : আবশ্যকীয় চারটি কাজ- ইসলামী জীবনদর্শনে ঈমান ও আমল অবিচ্ছেদ্য। একজন মুসলিমকে প্রকৃত অর্থে ঈমানদার হতে হলে জ্ঞান ও কর্মের সমন্বয়ে জীবন পরিচালনা করতে হয়। নি¤েœ কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে প্রত্যেক মুসলিমের জন্য আবশ্যকীয় চারটি বিষয় আলোচনা করা হলো : ১. ইলম বা জ্ঞান অর্জন : ইসলামে জ্ঞান অর্জনকে ইবাদত হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। দ্বীনের মৌলিক জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ফরজ। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন: “আর মুমিনদের সবার একত্রে অভিযানে বের হওয়া সমীচীন নয়। তবে তাদের প্রত্যেকটি বড় দল হতে এক একটি ছোট দল কেন অভিযানে বের হয় না, যাতে তারা দ্বীনের জ্ঞান অর্জন করতে থাকে এবং নিজ জাতিকে সতর্ক করে যখন তারা তাদের নিকট ফিরে আসে, যেন তারা পরহেযগার হয়ে চলতে পারে।” (সূরা আত-তাওবাহ: ১২২) রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “ইলম (দ্বীনী জ্ঞান) অর্জন করা প্রত্যেক মুসলমানের ওপর ফরজ।” (ইবনে মাজাহ)। মূলত আল্লাহর পরিচয়, রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহ এবং দ্বীনের বিধিবিধান সঠিকভাবে জানাই হলো প্রকৃত ইলম। ২. আমাল বা অনুশীলন : শুধুমাত্র জ্ঞান অর্জনই যথেষ্ট নয়, বরং অর্জিত জ্ঞান অনুযায়ী কাজ করাই হলো মুমিনের প্রকৃত পরিচয়। আমলহীন জ্ঞান অর্থহীন। আল্লাহ তাআলা মুমিনের বৈশিষ্ট্য স¤পর্কে বলেন: “রাসূল ঈমান রাখেন ঐ সমস্ত বিষয়ের প্রতি যা তাঁর পালনকর্তার পক্ষ থেকে তাঁর কাছে অবতীর্ণ হয়েছে এবং সকল মুমিনও ঈমান রাখেন। ... তারা আরও বলেন- আমরা শুনেছি এবং আনুগত্য করেছি। হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি, আর আপনারই দিকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে।” (সূরা আল-বাকারাহ: ২৮৫) হাদিস শরীফে এসেছে, “কুরআন তোমার পক্ষে অথবা তোমার বিপক্ষে প্রমাণ হিসেবে উপস্থিত হবে।” (সহীহ মুসলিম)। অর্থাৎ আমল করলে কুরআন হবে মুক্তির উপায়, আর আমল না করলে তা হবে শাস্তির কারণ। ৩. দাওয়াত বা সত্যের প্রচার : নিজে আমল করার পাশাপাশি অন্যকে ভালো কাজের দিকে আহ্বান করা এবং মন্দ কাজ থেকে দূরে রাখা মুমিনের দায়িত্ব। আল্লাহ তাআলা সময়ের শপথ করে বলেছেন: “মহাকালের শপথ! মানুষ অবশ্যই ক্ষতির মধ্যে রয়েছে। তবে তারা নয়, যারা ঈমান আনে ও নেক আমল করে এবং একে অপরকে সত্যের উপদেশ দেয় এবং একে অপরকে ধৈর্য ধারণের উপদেশ দেয়।” (সূরা আল- আসর: ১-৩) দাওয়াতের ক্ষেত্রে প্রজ্ঞা ও ন¤্রতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ বলেন, “আপনার পালনকর্তার পথের দিকে আহ্বান করুন প্রজ্ঞার সাথে এবং সুন্দর সদুপদেশের দ্বারা।” (সূরা আন-নাহল: ১২৫)। তবে দাওয়াত গ্রহণের ক্ষেত্রে বক্তার দ্বীনী আকিদাহ ও ইলম যাচাই করে নেওয়া জরুরি। ৪. সাবর বা ধৈর্য ধারণ : দ্বীনের ওপর অটল থাকা এবং বিপদ-আপদে ভেঙে না পড়াই হলো সবর। জীবনের প্রতিটি পরীক্ষায় ধৈর্য্যরে সাথে মহান আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা মুমিনের অন্যতম গুণ। লোকমান (আ.) তাঁর সন্তানকে অসিয়ত করে বলেছিলেন: “হে আমার বৎস! সালাত কায়েম করো, ভালো কাজের আদেশ দাও, মন্দ থেকে নিষেধ করো এবং দুঃখ-কষ্ট যা তোমাকে পৌঁছায় তাতে ধৈর্য ধারণ করো।” (সূরা লোকমান: ১৭) কুরআনে আরও ইরশাদ হয়েছে, “নিশ্চয় যারা বলে আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ, অতঃপর তাতে অবিচল থাকে, তাদের নিকট ফেরেশতা অবতীর্ণ হন (এবং বলেন), তোমরা ভীত হয়ো না এবং চিন্তিত হয়ো না।” (সূরা হা-মীম আস-সাজদাহ: ৩০) পরিশেষে, একজন আদর্শ মুসলিম হিসেবে আমাদের উচিত ইলম, আমল, দাওয়াত ও সবরের মাধ্যমে জীবন সাজানো। এই চার গুণের সমন্বয়ই আমাদের দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতার পথ দেখাবে। ঈমানের ওপর অটল থাকতে আমাদের সবসময় আল্লাহর কাছে দোয়া করা উচিত- “হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে আপনার দ্বীনের ওপর দৃঢ় রাখুন।”

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
প্রতিবেদকের তথ্য